Written by • 11:12 am• অর্থনীতি, আর্টিকেল, বিশ্লেষণ • Views: 0

এলপিজি সংকট: কার্গো আটকে রাখার অভিযোগ পাঁচ কোম্পানির বিরুদ্ধে

আগস্টের চেয়ে সেপ্টেম্বরে এলপিজি আমদানি বেড়েছে, তবু বাজারে সংকট চলছে। এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে পাঁচ কোম্পানির কার্গো আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে দেশে এলপিজি আমদানি বেড়েছে ১ হাজার টন। ফলে কাগজের হিসাবে বাজারে কোনো ঘাটতি থাকার কথা নয়। অথচ ১৫৮৫ টাকা নির্ধারিত মূল্যের ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ২০০০ থেকে ২৩০০ টাকা পর্যন্ত। আমদানি বাড়ার পরও সিলিন্ডার উধাও হওয়ার নেপথ্যে কারসাজির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সরকারের নিজস্ব গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

সারা দেশে এলপিজি সংকটের কারণে ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রায় কোথাওই নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সেপ্টেম্বরের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। সরকারি আমদানি তথ্য বলছে, আগস্টে দেশে ১,৫৭,০০০ টন এলপিজি এলেও সেপ্টেম্বরে এসেছে ১,৫৮,০০০ টন।

তাহলে ঘাটতি কেন?

বাজারের এই কৃত্রিম সংকটের মূল কারণ হিসেবে পাঁচটি শীর্ষ কোম্পানির দিকে আঙুল তুলেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। পয়লা অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া এনএসআইয়ের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইগ্যাস, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি এবং যমুনা গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের আমদানি করা এলপিজি কার্গো আটকে রেখেছে।

এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অক্টোবরের বাড়তি প্রিমিয়াম। অক্টোবরে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির প্রিমিয়াম টনপ্রতি ৬৪ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কম দামে আমদানি করা গ্যাস অক্টোবরের বাড়তি প্রিমিয়ামের সুবিধা নিয়ে বাজারে ছাড়তেই এই মজুতদারি করা হয়েছে। দেশের এলপিজি বাজারের ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, মেঘনা এবং যমুনা মিলে বাংলাদেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। সরবরাহ ব্যবস্থা এই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে জিম্মি থাকায় এই সংকট সহজে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে অভিযুক্ত কোম্পানিগুলো এই দাবি অস্বীকার করেছে। ওমেরা পেট্রোলিয়ামের প্রধান নির্বাহী তানজিম চৌধুরী মজুতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, তারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহকে সবসময় অগ্রাধিকার দেন। অন্যদিকে ডিলারদের দাবি, কোম্পানিগুলো প্ল্যান্ট থেকে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার সরবরাহ করছে না।

বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিবিড় নজরদারি এবং কার্গো মজুতের ওপর জরুরি অডিটের সুপারিশ করেছে এনএসআই। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সরকারও তৎপর হয়েছে। কিন্তু ডিলার এবং কোম্পানিগুলোর এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত বাড়তি দামের আর্থিক চাপ নিতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাকেই।

  • 0
  • 0
  • 0
  • 0
Visited 1 times, 1 visit(s) today
↑
Close