Written by • 10:35 am• পড়ুন, রাজনীতি • Views: 0

জাইমা রহমান লিগ্যাল অফিসার: জাতিসংঘে কী কাজ করবেন?

লিগ্যাল অফিসার জাতিসংঘের আইন বিভাগের কর্মকর্তা নন। তিনি মূলত সাধারণ পরিষদের সভাপতির ব্যক্তিগত উপদেষ্টা, যিনি সভাপতির কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে কাজ করেন।

লিগ্যাল অফিসারের কাজ

  • রেজুলেশন উত্থাপনের পদ্ধতি নির্ধারণ, পয়েন্ট অব অর্ডারে সভাপতির রুলিং তৈরি এবং প্রস্তাবিত সংশোধনীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আইনি পরামর্শ প্রদান।
  • স্পর্শকাতর বিষয়ে সভাপতির নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতের অভিযোগমুক্ত রাখতে জাতিসংঘ সনদ ও অতীত নজির তুলে ধরে আইনি সুরক্ষা প্রদান।
  • উত্থাপিত প্রস্তাব আগের নিয়ম বা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না যাচাই করা এবং বাজেটসংক্রান্ত প্রস্তাবে অন্য কমিটির অনুমোদন লাগবে কি না, তা খতিয়ে দেখা।
  • জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগসহ অন্যান্য আইনি সংস্থার সঙ্গে সভাপতির কার্যালয়ের সমন্বয় সাধন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি বা আইনি বিষয়ে সভাপতির বক্তব্যের খসড়া তৈরিতে সহায়তা প্রদান।

খলিলুর রহমানের দপ্তরে বর্তমানে বিভিন্ন নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের ৪০ ব্যক্তি। এই তালিকায় জাইমা রহমান ছাড়াও রয়েছেন আরও ৫ বাংলাদেশি:

  • উপপ্রধান কূটনীতিক: আবদুল আলিম;
  • উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী: মোয়াজ্জেম হোসেন;
  • তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাসবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা: মাফিজুল ইসলাম;
  • টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা: জাকির আহমেদ;
  • বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা: মো. রফিকুল আলম।

দপ্তরের ‘শেফ দ্য ক্যাবিনেট’ বা প্রধান সেনেগালের নাগরিক জিবরিল দিয়ালু।

যেভাবে নিয়োগ হয় লিগ্যাল অফিসার

‘সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে জাতিসংঘে কর্মরত স্থায়ী কর্মীদের পাশাপাশি নিজের এখতিয়ার থেকে কয়েকজনকে নিয়োগ করতে পারেন সভাপতি।’

লিগ্যাল অফিসার হিসেবে নিয়োগের মানদণ্ড

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত আন্তর্জাতিক আইনে অভিজ্ঞ এবং বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা জাতিসংঘে কাজ করা আইনজীবীদের এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের যোগ্যতা

জাইমা রহমান একজন ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

জাইমা কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ‘দি অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল’ থেকে সনদ পেয়েছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে একজন তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট হিসেবেও কাজ করছেন জাইমা রহমান।

জাইমা রহমানের অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • আবাসন, জনকল্যাণ ও শ্রম আইন বিষয়ে যুক্তরাজ্যে কাজ;
  • স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ ও জনসংযোগ;
  • সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা আইনের ওপর ‘প্রো বোনো’ (বিনা মূল্যে আইনি সেবা) প্রদান।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘এই পদে কাজ করার জন্য যথেষ্ট অভিজ্ঞ না হলেও যে যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন, সেটি জাইমা রহমানের রয়েছে।’

  • 0
  • 0
  • 0
  • 0
Visited 1 times, 1 visit(s) today
↑
Close