প্রথমেই কথা বলা যাক শরীরের ইলেকট্রিসিটি নিয়ে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন! আপনার গোটা শরীরটাই একটা জটিল ইলেকট্রিক্যাল সার্কিট! ধরা যাক, আপনার ব্রেইন হলো সেন্ট্রাল পাওয়ার হাউস আর স্নায়ুগুলো হলো তারের মতো যা সারা শরীরে বার্তা বয়ে নিয়ে যায়। প্রতিটি চিন্তা, অনুভূতি,পেশীর নড়াচড়া – সবকিছুর পেছনেই আছে এই বৈদ্যুতিক সংকেত। যখন ডাক্তাররা আপনার হার্টের অবস্থা জানতে ইসিজি করেন, কিংবা ব্রেইনের কার্যকলাপ দেখতে ইইজি করেন, তখন তারা আসলে আপনার শরীরের এই বিদ্যুৎকেই পরিমাপ করেন। অবিশ্বাস্য, তাই না?
এরপর যে বিষয়টা নিয়ে কথা বলবো, সেটা – ফেরোমোন! ফেরোমোন হলো রাসায়নিক সংকেত, যা আমরা নিজের অজান্তেই নিঃসরণ করি এবং অন্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও মানুষের ক্ষেত্রে ফেরোমোনের প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও অনেক গবেষণা চলছে, তবে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে কিছু সূক্ষ্ম রাসায়নিক বার্তা আমাদের আচরণ এবং পারস্পরিক আকর্ষণে ভূমিকা রাখে। হয়তো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি অব্যাখ্যেয় আকর্ষণ বা কারো উপস্থিতি ভালো লাগার পেছনে এই ফেরোমোনেরও একটা অদৃশ্য হাত থাকতে পারে! ব্যাপারটা অনেকটা অদৃশ্য সুতোর মতো, যা আমাদের একে অপরের সাথে জুড়ে রাখে।
সবশেষে, আমাদের মস্তিষ্কের এক অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা না করলেই নয় – ব্রেইন প্লাস্টিসিটি বা নিউরোপ্লাস্টিসিটি। একটা সময় ধারণা ছিল, নির্দিষ্ট বয়সের পর মস্তিষ্কের গঠন আর বদলায় না। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, এই ধারণা একেবারেই ভুল! আমাদের মস্তিষ্ক একটা গতিশীল অঙ্গ, যা সারাজীবন ধরে পরিবর্তিত হতে পারে। যখন আমরা নতুন কিছু শিখি, নতুন কোনো অভিজ্ঞতা অর্জন করি, তখন মস্তিষ্কের ভেতরে নতুন নতুন স্নায়বিক সংযোগ তৈরি হয়, পুরনো সংযোগ শক্তিশালী হয় বা দুর্বল হয়ে যায়। এর মানে হলো, শেখার কোনো বয়স নেই! এমনকি মস্তিষ্কের কোনো অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হলেও, অন্য অংশ সেই কাজ কিছুটা হলেও শিখে নিতে পারে। এই যে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, এটাই ব্রেইন প্লাস্টিসিটি। আমাদের মস্তিষ্ক যেন এক জীবন্ত সুপারকম্পিউটার, যা ক্রমাগত নিজেকে আপগ্রেড করতে থাকে।
বুঝতেই পারছেন, আমাদের এই মানবদেহ কতটা রহস্যময় আর শক্তিশালী। আমরা হয়তো এর অনেক কিছুই এখনও জানি না, কিন্তু যা কিছু জেনেছি, সেটাই আমাদের মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ট! আপনার শরীরকে জানুন, তার যত্ন নিন, কারণ এর ক্ষমতা আপনার কল্পনারও অতীত।



